ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা আর প্রস্তুতির ব্যস্ততা। আজ মহাষষ্ঠীতে শুরু হলো এই উৎসব।
এবছর সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় মোট ৪০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩১টি সার্বজনীন ও ৯টি ব্যক্তিগত মণ্ডপ। সার্বজনীন মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা সাজানোর কাজ, মণ্ডপ সাজানোর প্রতিযোগিতা।
রোববার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বেলগাছের নিচে ঘট স্থাপন করে ষোড়শ উপাচারে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভে ষষ্ঠী পূজা শুরু হয়। এর আগে ভোর থেকে চলতে থাকে পূজার সরঞ্জামাদি সাজানোর কাজ। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর কাসর ঘণ্টায় মুখরিত তাজপুরের কাশিপাড়ায় অবস্থিত ৪শ বছর আগের প্রাচীনতম হরিপুর শিব মন্দির, ও গোয়ালাবাজার কালি মন্দির, এবং দাসপাড়া সিদ্ধেশ্বরী সেবা সংঘ । দেবীদুর্গাকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকে অনেকেই ছিলেন অপেক্ষায়। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। যার সমাপ্তি হবে বিজয়া দশমীতে দেবীদুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। গ্রামাঞ্চলের পূজা মণ্ডপগুলোতে উৎসবকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হচ্ছে প্রাণবন্ত পরিবেশ। ঘরে ঘরে চলছে রান্নাবান্নার প্রস্তুতি, নারী পুরুষ ব্যস্ত পূজার আয়োজনে, আর তরুণ-তরুণীরা অংশ নিচ্ছেন মণ্ডপ সাজানোর কাজে। শহরে থাকা স্বজনদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, ফলে গ্রামীণ মণ্ডপগুলোতে ভিড় জমবে অসংখ্য দর্শনার্থীর।
এবারের পূজায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার বাহিনী ছাড়াও প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল দেবে সেনাবাহিনীও।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব। সবাই যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেটাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আমরা মণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেছি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এবং যেকোন সমস্যায় প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য কন্ট্রোল রুমে এই নাম্বার গুলোতে যোগাযোগ করতে পারবেন ০১৭৪৩-৫১৭০০৫ ০১৭৪০-৪৬১৯২৬ ০১৭৩০-৬৫৮৮৭২ তবে উৎসবকে আরও সুন্দর করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে সুন্দর ধারা আমাদের দেশে রয়েছে, তা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ওসমানীনগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চয়ন পাল বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। এই উৎসবকে ঘিরে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্য ও মিলনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়, তা অনন্য। আমরা ইতিমধ্যেই সব মণ্ডপে প্রস্তুতির কাজ শেষ করেছি। আমাদের লক্ষ্য, সবাই যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারে। এবারের উৎসব হবে শৃঙ্খলাপূর্ণ, সম্মানজনক ও সার্বজনীন আনন্দের উৎসব।
সংবাদ টি শেয়ার করুন।


















