ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবছর সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় মোট ৪০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি সার্বজনীন ও ৯টি ব্যক্তিগত মণ্ডপ। আজ মহাসপ্তমী প্রত্যেকটি মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সপ্তমীর নানা আচার অনুষ্ঠান। উৎসবকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীও টহল দিচ্ছে। গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেলও। নির্ভিগ্নে পুজা উদযাপন করতে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করতে দুর্গাপূজা সমন্বয় গ্রুপ খুলা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ।
গ্রামীণ মণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘরে ঘরে চলছে রান্নাবান্না, নারী-পুরুষ ব্যস্ত পূজার কাজে। তরুণ-তরুণীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছে নির্বিঘ্নে এতে অন্য রকম আমেজ বিরাজ করছে। শহরে থাকা স্বজনরাও আমন্ত্রণে এসেছেন নিজ নিজ এলাকায়। ফলে গ্রামীণ মণ্ডপগুলোতে বেড়েছে দর্শনার্থীর ভিড়।
শাস্ত্রমতে মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে (ষোল উপাদানে) দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান। একই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। এ সময় পূজারীরা প্রতিমার সামনে বসে মায়ের মুখ দর্শন করবেন। মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। এছাড়াও দিনব্যাপী চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে পূজা, দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে বলে জানান সর্বজনীন পূজা আয়োজকরা।
যদিও দুর্গাপূজা শুরু হলো শুক্রবার থেকে, তবে দেবী আসার ঘণ্টা বেজে যায় মহালয়ার দিন থেকেই। সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর ভক্তদের কষ্ট দূর করতে দেবী দুর্গা এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে, আর দশমীর দিন মর্ত্যলোক ছেড়ে যাবেন এই একই বাহনে। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর কাসর ঘণ্টায় মুখরিত উপজেলার তাজপুরের কাশিপাড়ায় অবস্থিত ৪শ বছর আগের প্রাচীনতম হরিপুর শিব মন্দির, ও গোয়ালাবাজার কালি মন্দির, এবং দাসপাড়া সিদ্ধেশ্বরী সেবা সংঘ । গ্রামাঞ্চলের পূজা মণ্ডপগুলোতে উৎসবকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হচ্ছে প্রাণবন্ত পরিবেশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, গতকাল থেকে এই পর্যন্ত মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছি খুবই শান্তিপূর্ণ ভাবে উৎসব চলছে। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সব মণ্ডপের প্রস্তুতি ঘুরে দেখেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারও করা হয়েছে।
ওসমানীনগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চয়ন পাল বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। এই উৎসবকে ঘিরে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্য ও মিলনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়, তা অনন্য। আমরা গতকাল মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে উৎসব শুরু হয়েছে আজ মহাসপ্তমী
প্রত্যেকটি মণ্ডপে প্রশাসনিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, আমাদের লক্ষ্য, সবাই যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারে। এবারের উৎসব হবে শৃঙ্খলাপূর্ণ, সম্মানজনক ও সার্বজনীন আনন্দের উৎসব।
সংবাদ টি শেয়ার করুন।

















