হারুন রশিদ, ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: ওসমানীনগরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য পালকির ইতিহাস, অজানাই রয়েগেছে তরুন প্রজন্মের কাছে। আশির দশকে পালকিই ছিলো বিবাহের বর ও কনে বহনকারী একমাত্র মাধ্যম। দিন বদলের ছোঁয়ায় ওসমানীনগর সহ দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে একেবারে হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার অনেক সংস্কৃতি তার মধ্য অন্যতম হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পালকি।
বাংলাদেশে পালকির ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয়েছিল বলা বাহুল্য । এদিকে হারিয়ে যেতে বসেছে লাঙ্গল, জোয়াল,হারিকেন, মোশাল, ঢেকি, ছাতা,লেম সহ বাঁশ ও বেত শিল্প। এদিকে মিসরীয় ও মায়া সভ্যতার চিত্রলিপিতে পালকির ছবি পাওয়া গেছে। দেশের সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতেও বর্তমানে পালকির আছে এক বিশেষ মর্যাদা। যারা পালকি বহন করতো তাদের বেয়ারা বলে। পালকি সাধারণত কাঠের তৈরী ছিলো। কাঠমিস্ত্রীরা বিভিন্ন ধরনের কাঠ দিয়ে পালকি তৈরি করেতেন। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যর ধারক / বাহক ছিলো এই পালকি। গ্রাম বাংলার প্রকৃতির সাথেই যেন বর্তমানে একেবারে মিশে গেছে পালকি নামক বাহন। গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য পালকির প্রচলন উঠে গেছে সমাজ থেকে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজকাল পালকির দেখা কল্পনাতে রয়েগেছে পালকির বিয়ের উৎসব মহা উৎসবের ছিলো। বর্তমান সময়কার ছেলে/মেয়ের কাছে এগুলো রুপকথার গল্পের মতো মনে হয়।
বাস্তবতার নিরিখে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মানুষ এখন অতি সৌখিনতা অবলম্বন করার ফলে প্রাচীন ঐতিহ্যগুলোকে হারাতে বসেছে। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের উঠতি বয়সী তরুন ও শিশুদের কাছে এগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা রয়েছে। ইঞ্জিন চালিত যানবাহন বাড়ার সাথে সাথে দিনদিন বদলের অতলে হারিয়ে গেছে পালকির মতন পশুচালিত যানবাহনগুলোও ।
যেমন, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন লালনে মানুষ যাতায়াতে বাহন হিসাবে বিভিন্ন ধরনের কার লাইটেস,সিএনজি সহ অত্যদুনি যানবাহন সহ ব্যাটারিচালিত গাড়ি ব্যবহার করছে। বর্তমানে কেউ কেউ হেলিকপ্টার নিয়েও বর সেজে বিয়ে বাড়িতে যেতে দেখা যায়, তবে মাঝে মধ্যে হাতি ও ঘোড়ার গাড়ী দিয়ে বিবাহের বর কনে কে বহন করতে দেখা যায়।
উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের বরায়া কাজির গাঁও গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি এলাইচ মিয়া জানান ১৯ ৮০ সালে দয়ামির ইউনিয়ন শরিষপুর গ্রামের কনে আমিরুন বেগম কে বড়দিরারাই গ্রামের লন্ডন প্রবাসী নুরুল ইসলাম এর সাথে বিবাহ কালে পালকিতে চড়ে বর আসেন পরে বিবাহ অনুষ্ঠান শেষে পালকিতে করে কনেকে বসিয়ে পালকির সাথে সাথে বর হেটে যান। তিনি বলেন ঐ বিবাহে আমি নিজেই উপস্থিত ছিলাম,এখন আর আগের মতো পালকির বিবাহ দেখা যায় না। বর্তমানে পালকি আমাদের অতীত ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে রয়েগেছে। পালকির স্থান হয়েছে এখন বিভিন্ন জাদুঘরে। সভ্যতা এবং বাস্তবতার কথা চিন্তা করলে পালকিকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না তা প্রশ্নই থেকে গেলো। তবে আমাদের নতুন প্রজন্ম যাতে পালকির কথা ভুলে না যায় সেদিকে সচেতন মহলের সুদৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন মনে করছি।
সংবাদ টি শেয়ার করুন।


















